আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ ডেস্ক: শিশুর জ্বর হলে কী করবেন ? শিশুর জ্বর হওয়া নতুন কিছু না। বিভিন্ন কারণে ছোট্ট শিশুর জ্বর হতে পারে। এটা শিশুদের জন্য স্বাভাবিক বিষয়। তবে শিশুর সুস্থতার জন্য সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। এতে বিচলিত হবার দরকার নেই।
শিশুদের জ্বরের কারণ
কোনো ভাইরাল সংক্রমণ কিংবা ঠান্ডা জনিত কারণে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে জ্বর হতে পারে। তবে শিশুর জ্বর কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবেও হতে পারে। যেমন, চিকেন পক্স, টনসিলাইটিস ইত্যাদি। এছাড়া টিকা-পরবর্তী সময়েও জ্বর হতে পারে।
শিশুর জ্বরের লক্ষণ
শিশুর ত্বকে হাত দিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বেশি অনুভব করলেই জ্বর সন্দেহ করা হয়। অতিরিক্ত ঘাম, খাবারে অরুচি, ক্লান্তি, ত্বকে র্যাস, অসুস্থতাবোধ শিশুর জ্বরের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়।
থার্মোমিটারের মাধ্যমে সহজেই তাপমাত্রা মাপা যায়। ৩৮° সেলসিয়াস/ ১০০.৪° ফারেনহাইটের বেশি তাপমাত্রাকে সাধারণত জ্বর বলা হয়। বাড়িতে শিশুদের তাপমাত্রা দেখার ক্ষেত্রে ডিজিটাল থার্মোমিটার ব্যবহার করা ভাল।
আরও পড়ুনঃ ছয় মাস বয়সী শিশুর খাবার যেমন হবে
শিশুর জ্বর হলে করণীয়
শিশুর জ্বর হলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার কমতি থাকে না। তবে বিচলিত না হয়ে শিশুর দিকে খেয়াল দিতে হবে।
১. শিশুর শরীরে যেন পানির অভাব না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত শিশুর পানির ঘাটতির লক্ষণ হলো অল্প প্রস্রাব, কান্না করলে চোখে পানি না আসা, মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
২. শিশু বুকের দুধ খেলে এ সময় বেশি বেশি দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
৩. শিশুকে পাতলা ঢিলে-ঢালা পোশাক পরাতে হবে।
৪. প্রয়োজনে কুসুম-গরম পানিতে গোসল করাতে হবে।
৫. রাতে শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
৬. চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়াতে হবে।
৭. ভারী পোশাক বা কাঁথা-কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখবেন না।
৮. ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের জ্বরের সাথে মাঝেমধ্যে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। শিশুর খিঁচুনি হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এটি সাধারণত কোনো বড়ো ক্ষতির লক্ষণ নয়। তবে খিঁচুনির সাথে সাথে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৯. কোন প্রকার ঝাড়-ফাঁক, পানি পড়া দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
❖ বমি ও পাতলা পায়খানা দেখা দিলে।
❖ অতিরিক্ত পানির অভাব হলে।
❖ ত্বকে ফুসকুড়ি বা র্যাস হলে।
❖ শ্বাসকষ্ট, কাশি হলে।
❖ খিঁচুনি হলে।
❖ তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে।
❖ অস্বাভাবিক কান্না বা ঘুম না হলে।
❖ জ্বর যদি ১০১ ডিগ্রীর ওপরে উঠে যায়।
❖ এক মাসের কম বয়সি শিশুদের জ্বর এলে অবশ্যই সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুর যেকোনো অসুস্থতা পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ । তবে মনে রাখতে হবে, শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর হওয়া স্বাভাবিক। তবে কোনো সন্দেহ, প্রশ্ন অথবা জটিল উপসর্গ থাকলে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
❑ মা ও শিশুর যত্ন থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুনঃ যেসব বিষয়গুলো শিশুর সঙ্গে কখনোই করবেন না


