আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: অনেকেরই অভিজ্ঞতা আছে যে, রাতের বেলা হঠাৎ করে ঘড়ির কাঁটা যখন ৩টা বা ৪টার ঘরে থাকে, তখনই ঠিক ঘুমটা ভেঙে যায়। কেউ একে ‘শয়তানের সময়’ বলেন, আবার কেউ ভাবেন এটি কেবল অনিদ্রার সমস্যা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে শরীরের এক গভীর জৈবিক এবং মানসিক সঙ্কেত। কেন ঠিক এই সময়েই ঘুম ভাঙে, তার রহস্য উন্মোচন করেছেন গবেষকরা।
রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে নিয়মিত ঘুম ভেঙে যাওয়া কি কোনো রোগের লক্ষণ? মস্তিষ্ক ও হরমোন কীভাবে কাজ করে, জেনে নিন বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা।
কেন ৩টা থেকে ৪টার মধ্যেই এমন হয়?
বিজ্ঞানীদের মতে, রাত ৩টাটে থেকে ৪টার সময়টি হলো আমাদের ঘুমের একটি ট্রানজিশন বা সন্ধিক্ষণ। এর পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
১. মেলাটোনিন ও কর্টিসলের খেলা: রাত ৩টার দিকে আমাদের শরীরের মূল তাপমাত্রা কমতে শুরু করে এবং ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ সর্বোচ্চ শিখরে থাকে। একই সাথে শরীর পরের দিন সকালের জন্য প্রস্তত হতে ‘কর্টিসল’ (স্ট্রেস হরমোন) নিঃসরণ শুরু করে। এই দুই হরমোনের টানাপোড়েনে শরীরের ঘুম খুব পাতলা হয়ে যায়, ফলে সামান্য শব্দ বা অস্বস্তিতেই ঘুম ভেঙে যায়।
২. মানসিক উদ্বেগের প্রতিফলন: মনোবিজ্ঞানীদের মতে, রাত ৩টার সময় ঘুম ভেঙে যাওয়া মানে আপনার মস্তিষ্ক কোনো গভীর দুশ্চিন্তা বা সমস্যার সমাধান খুঁজছে। এই সময়ে মানুষের বিচারবুদ্ধি কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়, তাই ছোট সমস্যাকেও বিশাল বড় মনে হয়। বিজ্ঞানীরা একে ‘ক্যাটাস্ট্রফাইজেশন’ বলেন।
৩. রক্তে শর্করার মাত্রা: অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar) কমে গেলেও মস্তিষ্ক হঠাৎ করে সজাগ হয়ে যায়। শরীর তখন শক্তি সঞ্চয়ের সঙ্কেত হিসেবে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়।
৪. লিভারের কার্যকারিতা: প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা অনুযায়ী, রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়টি লিভারের বিষমুক্ত করার (Detox) সময়। যদি শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকে বা খাদ্যাভ্যাস ঠিক না থাকে, তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন:
❒ শীতে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে? সুস্থ থাকতে যে সতর্কতাগুলো জরুরি
❒ ওরস্যালাইন হতে পারে বিপজ্জনক! ঝুঁকিতে এই ৭ ধরনের মানুষ
❒ বারবার হাই ওঠা কি শরীরের বিপদের সিগনাল?
❒ শীতে ভিটামিন ডি’র মাত্রা বাড়ানোর উপায়
❒ পারকিনসন্স রোগ কী এর কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
❒ থ্যালাসেমিয়া কী ও কেন হয়?
বিজ্ঞানীরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন?
যদি নিয়মিত আপনার ৩টা বা ৪টার সময় ঘুম ভাঙে, তবে ঘড়ির দিকে না তাকানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে:
❁ ঘড়ির দিকে তাকাবেন না: ঘড়ির সময় দেখলে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় এবং মস্তিষ্ক আরও সজাগ হয়ে ওঠে।
❁ নিশ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম: ‘৪-৭-৮’ পদ্ধতিতে নিশ্বাস নিলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং দ্রুত পুনরায় ঘুম আসে।
❁ গ্যাজেট থেকে দূরে থাকুন: নীল আলো মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোনকে বাধা দেয়, তাই ফোন ছোঁবেন না।
মাঝরাতে ঘুম ভাঙা মানেই ভয়ের কিছু নয়। এটি আপনার শরীরের একটি ছন্দ মাত্র। তবে যদি প্রতিদিন এমন হয় এবং পরে আর ঘুম না আসে, তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
❑ স্বাস্থ্যকথা থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত গরম লাগা কি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ? কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

