আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: অসহ্য গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি আপনার শরীরে কি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে? অনেক সময় অতিরিক্ত গরম লাগা কেবল আবহাওয়া নয়, বরং শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে। কেন আপনার শরীরে অতিরিক্ত উত্তাপ অনুভূত হয় এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।
শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগা কি বিপদের সংকেত? থাইরয়েড, হরমোন বা জীবনযাত্রার কোন ত্রুটি এর জন্য দায়ী? জানুন কারণ ও উত্তরণের সহজ উপায়।
শরীরে অতিরিক্ত গরম লাগার সম্ভাব্য কারণসমূহ
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।
১. মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা: কেউ যদি খুব বেশি মানসিক চাপে থাকেন, তিনি অতিরিক্ত গরম অনুভব করতে পারেন। অতিরিক্ত ঘামও হতে পারে। মাথাব্যথাও হয়। তাই ভেবে দেখুন, বাড়তি কোনো চাপ আপনাকে সামলাতে হচ্ছে কি না। মনকে প্রশান্ত রাখুন। আপনার যা আছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। নিজের ক্যারিয়ার কিংবা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবেন না। মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যে কান দেবেন না।
২. থাইরয়েডের সমস্যা: হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে শরীরের মেটাবলিজম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যার ফলে শরীর সবসময় গরম অনুভব করে।
৩. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: বিশেষ করে মেনোপজের সময় নারীদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করে প্রচণ্ড গরম (Hot Flashes) লাগতে পারে।
৪. ডায়াবেটিস: দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস বা স্নায়ুর সমস্যার কারণে শরীরের ঘাম নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে, যা শরীরকে গরম করে তোলে।
৫. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যালার্জির কিছু ওষুধের প্রভাবে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
৬. অতিরিক্ত ওজন ও জীবনযাত্রা: স্থূলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।
৭. পানিশূন্যতা: শরীরে পানি কম থাকলে ঘাম কমে যায়। এতে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না এবং গরম বেশি লাগে।
৮. হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ: রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক না থাকলে শরীরের তাপ বাইরে বের হতে পারে না। এতে গরমে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বাড়ে।
এটি কি স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ?
শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা ‘থার্মোরেগুলেশন’ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে হিট স্ট্রোক, তীব্র ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘ সময় এই সমস্যা চলতে থাকলে তা শরীরের আভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রতিকার ও করণীয়
পর্যাপ্ত জল পান: দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখতে ডাবের জল বা ওআরএস (ORS) পান করতে পারেন।
সঠিক পোশাক নির্বাচন: ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন যা বাতাস চলাচলে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:
❒ ওরস্যালাইন হতে পারে বিপজ্জনক! ঝুঁকিতে এই ৭ ধরনের মানুষ
❒ জ্বরের পর মুখে তিতা ভাব? একদিনে রুচি ফেরানোর সহজ উপায়
❒ রাতভর শান্ত ঘুমের জন্য মেনে চলুন ১০ টি নিয়ম
❒ বারবার হাই ওঠা কি শরীরের বিপদের সিগনাল?
❒ ঘরে খালি পায়ে হাঁটা নাকি স্যান্ডেল পরে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
❒ গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা দ্রুত সারবে নিয়মিত লেবুপানি খেলে
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ও ক্যাফেইন (চা-কফি) এড়িয়ে চলুন। শসা, তরমুজ ও দইয়ের মতো জলীয় অংশযুক্ত খাবার তালিকায় রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি নিয়মিত শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হয়, তবে দ্রুত হরমোন বা থাইরয়েড পরীক্ষা করানো জরুরি।
অতিরিক্ত গরম লাগাকে অবহেলা করবেন না। যদি জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরেও সমস্যার সমাধান না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকতে শরীরের প্রতিটি সংকেতকে গুরুত্ব দিন।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে
❑ স্বাস্থ্যকথা থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: স্ট্রোকের ঝুঁকি ও প্রতিকার: জীবন বাঁচাতে যা জানা জরুরি

