আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: শিশুকে কখন থেকে বই দেবেন? নিউরোসায়েন্স যা বলছে । শিশু জন্ম নেওয়ার পর থেকেই তার মস্তিষ্কে শুরু হয় দ্রুত বিকাশ। এই বিকাশকে আরও গতিশীল করতে বই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি। শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়ার সময় কোনটি সঠিক—এটি অনেক বাবা-মায়ের মনে থাকা স্বাভাবিক প্রশ্ন। কেউ বলেন ৩ বছর, কেউ বলেন স্কুল শুরুর সময়, আবার কেউ কেউ একদম ছোট থেকেই বই হাতে ধরিয়ে দেন। কিন্তু নিউরোসায়েন্স বা স্নায়ুবিজ্ঞান এই বিষয়ে কী বলে?
মস্তিষ্কের বিকাশ ও বইয়ের ভূমিকা:
শিশুর জন্মের পর প্রথম পাঁচ বছর তার মস্তিষ্ক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ১০ লাখ নিউরাল সংযোগ তৈরি হয়। এই সময়ে সঠিক উদ্দীপনা—যেমন বই, গল্প, শব্দ ও চিত্র—শিশুর ভাষা, আবেগ, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। নিউরোসায়েন্স বা স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, বইয়ের সঙ্গে শিশুর পরিচয় হওয়া উচিত জীবনের একেবারে শুরুর দিকেই।
বয়সভিত্তিক বই দেওয়ার উপযুক্ত সময় ও ধরন:
০–৬ মাস:
❖ এখনই শুরু করুন বই দেখানো।
❖ সফট কাপড়ের বা রাবারের বই, বড় ও রঙিন ছবি–এগুলো শিশুর দৃষ্টিশক্তি ও আগ্রহ বাড়ায়।
৬–১২ মাস:
❖ পাতা উল্টাতে পারে এমন শক্ত পাতার বই।
❖ ছবি চেনা ও স্পর্শের মাধ্যমে শেখা শুরু হয়।
❖ বাচ্চারা বই ধরতে চায়, পাতায় হাত বোলায়, এমনকি মুখে দেয়।
❖ এই সময় টেকসই ও ধোয়া যায় এমন বই দিন।
১–৩ বছর:
❖ ছোট বাক্যে লেখা, ছড়া বা রাইমযুক্ত বই।
❖ শিশু গল্প শুনে আনন্দ পায়। শব্দ, ছবি ও রঙিন বই তাদের ভাষা শেখায়।
❖ মা–বাবার কণ্ঠে গল্প শিশুর আবেগীয় সংযোগ তৈরি করে।
৩–৫ বছর:
❖ ছোট বাক্য, ছড়া, সহজ গল্প—এগুলো শেখার আগ্রহ বাড়ায়।
❖ নিজে পড়ে বোঝার চেষ্টা শুরু করে।
❖ কল্পনাশক্তি ও ভাষার দক্ষতা বাড়ে।
কেন ছোটবেলা থেকেই বই? (নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী):
❖ ভাষা ও শব্দভাণ্ডার বিকাশে সাহায্য করে।
❖ মস্তিষ্কে নিউরন সংযোগ বাড়ায়।
❖ স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ উন্নত করে।
❖ কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়।
❖ পিতামাতার সঙ্গে সংবেদনশীল বন্ধন গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
❒ সন্তানকে ছোট থেকেই ইতিবাচক যে আচরণগুলি শেখানো উচিত
❒ শিশুর সঙ্গে খেলা জরুরি কেন?
❒ ছেলেসন্তানকে যে ৫টি জিনিস অবশ্যই শেখাবেন
❒ প্রত্যেক শিশুরই যে আটটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা উচিত
❒ বাবা-মায়ের যে ১০ ভুলের কারণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়
❒ যেসব বিষয়গুলো শিশুর সঙ্গে কখনোই করবেন না
কীভাবে বই পড়বেন?
❖ শিশুকে কোলে নিয়ে তার চোখের দিকে তাকান।
❖ বইটি সামনে ধরে ধীরে ধীরে এবং নাটকীয় ভঙ্গিতে পড়ুন।
❖ শিশুর মনোযোগ ধরে রাখতে ছবিগুলো দেখান এবং ছবি নিয়ে কথা বলুন।
শিশুকে বই দেওয়া শুরু হোক জন্ম থেকেই। শিশুর বইয়ের সঙ্গে পরিচয় যত আগে হবে, শেখার ভিত্তি ততই শক্তিশালী হবে। বই শুধু জ্ঞানই দেয় না, বরং শিশুর মস্তিষ্ক ও মনন গঠনের ভিত্তি তৈরি করে। নিউরোসায়েন্স বলছে—প্রথম পাঁচ বছরই হলো শেখার “গোল্ডেন পিরিয়ড”। শিশুর বইয়ের প্রতি আগ্রহ গড়ে তুললে তা ভবিষ্যতের ভাষা, বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক দক্ষতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই শিশুর হাতে মোবাইল নয়, বই দিন—ভবিষ্যতের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় উপহার।
❑ মা ও শিশুর যত্ন থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: শিশুকে যে কারণে শেখাবেন এই ১০ শব্দ

