আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: বয়স বাড়লে কেন চুল পেকে যায় ? বয়স বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন হয়, আর চুলের রং পরিবর্তন হওয়া একটি সাধারণ এবং চিরাচরিত প্রক্রিয়া। আমরা সকলেই জানি, বয়স বাড়লে চুল পেকে যায় এবং সাদা হয়ে যায়, তবে এই পরিবর্তন কেন ঘটে? কী প্রক্রিয়া মস্তিষ্কে বা শরীরের মধ্যে ঘটে যার কারণে চুলে রঙের পরিবর্তন হয়? চলুন, আজকের পর্বে জানি কেন বয়স বাড়লে চুল পেকে যায় এবং এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণগুলো কী।
চুলের রঙ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
চুলের রঙ নির্ধারিত হয় একটি বিশেষ পিগমেন্ট বা রঞ্জক দ্বারা, যাকে মেলানিন বলা হয়। মেলানিন দুটি প্রধান ধরনের হতে পারে:
❆ ইউমেলানিন – যা চুলকে কালো বা বাদামী রং দেয়।
❆ ফেওমেলানিন – যা চুলকে হলুদ বা সোনালী রং দেয়।
এই মেলানিন চুলের কোষগুলোতে তৈরি হয়, এবং যত বেশি মেলানিন থাকে, তত গা dark ় বা কালো রঙের চুল হয়। বয়স বাড়ানোর সাথে সাথে, আমাদের চুলের মেলানিন উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে, যার ফলে চুলের রঙ হালকা হতে থাকে এবং শেষমেশ সাদা বা ধূসর হয়ে যায়।
বয়স বাড়লে চুল সাদা হওয়ার কারণ কী?
বয়স বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষগুলোকে পুনর্নির্মাণ বা মেরামত করার ক্ষমতা কমে যেতে থাকে। চুলের পিগমেন্ট কোষ বা মেলানোসাইটস তাদের কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। এই মেলানোসাইটস কোষগুলি চুলের মেলানিন উৎপাদন করে। বয়স বাড়লে এই কোষগুলির কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে এবং অবশেষে চুলে মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে চুল সাদা হয়ে যায়।
১। জেনেটিক কারণে:
চুলের সাদা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে আমাদের জেনেটিক (উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত) গঠন। যদি আপনার পরিবারে বা বাবা-মায়ের মধ্যে আগেই চুল সাদা হতে শুরু করে থাকে, তাহলে আপনার ক্ষেত্রেও এর সম্ভাবনা বেশি। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৩০-এর পর শুরু হয়ে থাকে, তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরও আগেই শুরু হতে পারে।
২। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস:
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের কোষগুলোতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (অক্সিজেনের অপ্রচুর পরিমাণ) বৃদ্ধি পায়, যা মেলানোসাইটসের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এই স্ট্রেসের কারণে মেলানিন উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং শেষমেশ চুল সাদা হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়া প্রাথমিকভাবে ত্বক, চোখ এবং চুলের রঙের জন্য দায়ী।
৩। ভিটামিন এবং মিনারেলের অভাব:
আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলসের অভাবও চুল পাকার অন্যতম কারণ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন B12 এবং ফলিক অ্যাসিড এর অভাব চুলের রঙ পরিবর্তনের পেছনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
৪। হারমোনাল পরিবর্তন:
বয়স বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন ধরনের হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। মেনোপজ এবং অন্যান্য হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে চুলের রঙের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনও মেলানিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।
চুল পাকা বন্ধ করা সম্ভব কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পাকা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু উপায় রয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে আপনি চুলের আগেই পাকা হওয়া ধীর করে দিতে পারেন:
১। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
চুলের পাকা হওয়া রোধ করতে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি, প্রোটিন ও ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া সঠিক পুষ্টি চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক।
২। স্ট্রেস কমানো:
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বা উদ্বেগ চুলের পাকা হওয়া ত্বরান্বিত করতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান বা পছন্দের কাজ করে স্ট্রেস কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
❒ মস্তিষ্কের মেমোরি কি সত্যিই ফুরিয়ে যায়?
❒ মানুষের মিথ্যাচারের কারণ কী?
❒ গন্ধ নাকে লাগলে মুখে থুতু আসে কেন?
❒ ঘুম থেকে উঠেই হাই ওঠে কেন?
❒ চোখ কপালে ওঠে বলি কেন?
❒ ঘুম না পেলে শরীরে কী হয়?
৩। প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার:
যেমন: আমলা তেল, নারিকেল তেল, এবং আখরোট তেল চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের অনেক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে আসে, আর তার মধ্যে চুল পাকা একটি স্বাভাবিক এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি জেনেটিক, পরিবেশগত, এবং শারীরিক নানা কারণে হতে পারে। যদিও চুল পাকা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক পুষ্টি চুলের সাদা হওয়া দেরি করতে সাহায্য করতে পারে।
এটা মনে রাখা জরুরি যে, চুলের রঙ বদলানো মানেই আপনার জীবনযাত্রায় বয়স বাড়া নয়, বরং এটি জীবনের একটা সাধারণ ধাপ। চুল সাদা হওয়ার মতো প্রক্রিয়াগুলি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা শুধু বয়সের পরিবর্তন নয়, বরং জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পরিচায়ক।
❑ মাথায় কত প্রশ্ন আসে থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: স্বপ্ন দেখি কেন? স্বপ্নের ব্যাখ্যা কী?

