আইসিটি ওয়ার্ল্ড নিউজ: অন্যের ঝগড়ায় আমাদের এত আনন্দ কেন? মনোবিজ্ঞান যা বলছে । মানুষ মূলত শান্তিপ্রিয় প্রাণী হিসেবে দাবি করলেও, অন্যের বিবাদ বা ঝগড়া দেখার প্রতি আমাদের এক চিরন্তন আকর্ষণ রয়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা একে কেবল ‘কৌতূহল’ বলতে নারাজ; এর পেছনে লুকিয়ে আছে বিবর্তনবাদ এবং মস্তিষ্কের রাসায়নিক খেলা।
অন্যের ঝগড়া দেখা কি কেবল কৌতূহল নাকি এর পেছনে আছে বিজ্ঞান? মস্তিষ্কের ডোপামিন রাশ ও মনোবিজ্ঞানের চমকপ্রদ ব্যাখ্যা জানুন।
১. ডোপামিন রাশ (Dopamine Rush)
যখন আমরা কোনো উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা বা ঝগড়া দেখি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নামক নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ হয়। এটি আমাদের এক ধরনের সাময়িক আনন্দ বা উত্তেজনার অনুভূতি দেয়। অনেকটা অ্যাকশন সিনেমা দেখার মতো, বাস্তব জীবনের ঝগড়া আমাদের স্নায়ুতে টানটান উত্তেজনা তৈরি করে।
২. সামাজিক তুলনা ও স্বস্তি (Social Comparison)
মনোবিজ্ঞানে ‘সোশ্যাল কম্পারিজন থিওরি’ অনুযায়ী, মানুষ সবসময় নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করে। যখন আমরা দেখি অন্য কেউ ঝগড়া করছে বা সমস্যায় আছে, তখন অবচেতনভাবে আমাদের মনে হয়— “যাক, আমি অন্তত এই ঝামেলায় নেই।” অন্যের বিশৃঙ্খলা দেখে নিজের জীবনকে তুলনামূলক গোছানো ও শান্তিপূর্ণ মনে হওয়াটা এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি দেয়।
৩. আদিম প্রবৃত্তি ও শিক্ষা
বিবর্তনবাদ অনুসারে, আদিম যুগে মানুষ অন্যের বিবাদ দেখে শিখত যে কার শক্তি বেশি বা কে সমাজের জন্য বিপজ্জনক। অর্থাৎ, কার সাথে চলা নিরাপদ আর কার সাথে নয়, তা বোঝার জন্য অন্যের বিবাদ পর্যবেক্ষণ করা ছিল টিকে থাকার একটি কৌশল। সেই আদিম প্রবৃত্তি আজও আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
❒ কেন বরফ পানির উপর ভাসে? জেনে নিন এর পেছনের জাদুকরী বিজ্ঞান
❒ কাক সাবান চুরি করে কেন নিয়ে যায়? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
❒ বাংলাদেশে কি তুষারপাত হতে পারে? জেনে নিন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ
❒ সূর্যাস্তের সময় আকাশ লালচে হয় কেন?
❒ জন্মের সময় শিশুদের দাঁত থাকে না কেন?
❒ মানুষের মিথ্যাচারের কারণ কী?
৪. ক্যাথারসিস বা অবদমিত আবেগ
অনেক সময় আমাদের নিজেদের মনের ভেতরে রাগ বা ক্ষোভ জমে থাকে যা আমরা প্রকাশ করতে পারি না। অন্য কেউ যখন চিৎকার করে ঝগড়া করে, তখন তা দেখে আমাদের সেই অবদমিত আবেগগুলোর একটি পরোক্ষ বহিঃপ্রকাশ ঘটে। একে বলা হয় ‘ক্যাথারসিস’।
৫. বিনোদনের সস্তা উৎস
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের ঝামেলাগুলো এক ধরনের ‘রিয়েলিটি শো’-তে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবনের নাটকীয়তা বা ড্রামা দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ‘গসিপ’ বা পরনিন্দার জন্ম হয়, যা অত্যন্ত সস্তা বিনোদন হিসেবে কাজ করে।
তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে, বিবিসি সায়েন্স ফোকাস, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA)
আরও পড়ুন: ইন্টারনেটে থাকা কি নিরাপদ?

