আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: কেন আমরা হাঁচি দিই ? হাঁচি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ বিষয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘটে। তবে, কখনো কি ভেবেছেন, হাঁচি কেন আসে? কেন আমাদের এই অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়াটি ঘটতে হয়? সাধারণত হাঁচি সাধারণ একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া হলেও এর পেছনে একাধিক কারণ এবং প্রক্রিয়া রয়েছে। আজকের পর্বে আমরা জানবো, হাঁচি কেন হয় এবং এর পেছনে থাকা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী।
হাঁচি কী?
হাঁচি বা স্নোজিং হলো একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যখন আমাদের নাক বা গলার ভিতরে কোনো অস্বাভাবিক কিছু প্রবেশ করে, তখন আমাদের শরীর সেটিকে বের করার চেষ্টা করে। এটি একটি অজ্ঞান বা অজান্তে ঘটিত প্রতিক্রিয়া। সাধারণত, আমাদের শ্বাসযন্ত্রের কোন অংশে যদি কোনো ধূলিকণা, অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বা জীবাণু ঢুকে যায়, তখন শরীর সেগুলোকে বাইরে বের করে আনার জন্য হাঁচি দেয়।
হাঁচি কেন হয়?
১। ধূলিকণা ও জীবাণু থেকে রক্ষা:
আমাদের নাকের ভিতর বিভিন্ন ধরনের স্নায়ু ও সেন্সর থাকে, যেগুলি বাইরের অস্বাভাবিক কণা যেমন ধূলিকণা, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, বা কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ সনাক্ত করলে সেগুলো শরীর থেকে বের করে দিতে সংকেত দেয়। হাঁচি এই সংকেতের ফলস্বরূপ ঘটে। এর মাধ্যমে শরীর আক্রমণকারীদের পরিষ্কার করে এবং আমাদের শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষিত রাখে।
২। অ্যালার্জি:
অনেক সময় মানুষের শরীর কিছু বস্তু, যেমন: পোলেন, ধূলি, পশুর লোম বা কিছু খাবারের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। যখন এই ধরনের অ্যালার্জেন আমাদের শ্বাসযন্ত্রের সাথে সংযুক্ত হয়, তখন আমাদের শরীর অতিরিক্ত রিয়েক্ট করে এবং হাঁচি দেয়। এটি অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার একটি অংশ।
৩। শীতল বাতাস বা তাপমাত্রার পরিবর্তন:
অনেক সময় শীতল বা ঠাণ্ডা বাতাস শ্বাসনালীতে প্রবাহিত হলে, সেটি নাক বা গলার ভেতর কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যার ফলে হাঁচি হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালীন পরিবেশে বা বাতাসে তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে এটি বেশিরভাগ সময় ঘটে থাকে।
৪। তীব্র গন্ধ বা রাসায়নিক পদার্থ:
বিভিন্ন ধরনের তীব্র গন্ধ যেমন: স্প্রেস, পরিশোধক (ডিটারজেন্ট) বা কিছু রাসায়নিক পদার্থও আমাদের নাকে প্রবেশ করলে, তা শরীরের জন্য অস্বাভাবিক হতে পারে। ফলে আমাদের শরীর সেগুলো থেকে মুক্তি পেতে হাঁচি দেয়।
৫। জ্বর বা ঠাণ্ডা:
সর্দি বা জ্বরের সময় আমাদের নাক ও গলার শ্লেষ্মা (মিউকাস) বেড়ে যায়, এবং এতে শ্বাসযন্ত্রে কোনো অস্বাভাবিক পদার্থ প্রবাহিত হলে শরীর সেটিকে বের করার জন্য হাঁচি দেয়।
হাঁচি দেওয়ার প্রক্রিয়া
১। উত্তেজনা বা সিগন্যাল:
হাঁচি শুরু হয় যখন আমাদের নাক বা গলার ভেতরে কোনো ক্ষতিকর পদার্থ প্রবাহিত হয়। এই ক্ষতিকর পদার্থ আমাদের সেন্সরি স্নায়ু বা নাসিকা মিউকোসার কোষে পৌঁছায়। তখন আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায় যে, এই বস্তুটি ক্ষতিকর হতে পারে এবং শরীর তা বাইরে বের করতে চায়।
২। মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া:
মস্তিষ্ক থেকে একটি সংকেত শ্বাসযন্ত্রকে পাঠানো হয় এবং শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন পেশী ও শ্বাসনালী প্রস্তুত হয় হাঁচি দেওয়ার জন্য।
৩। মুখ ও নাকের ছিদ্র দিয়ে বায়ু বের হওয়া:
মাথা ও শরীরের অন্যান্য অংশের স্নায়ু কর্মক্ষমতা শিথিল হয়ে যাওয়ার পর, শরীর থেকে প্রচুর বায়ু নাক এবং মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে, এটি হাঁচি হিসেবে পরিচিত।
হাঁচি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়
১। অ্যালার্জির চিকিৎসা:
যদি অ্যালার্জির কারণে হাঁচি হয়, তবে অ্যালার্জি প্রতিরোধক ওষুধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
২। ধূলিকণা ও জীবাণু থেকে দূরে থাকা:
ধূলিকণা, ধোঁয়া বা জীবাণু থেকে দূরে থাকা, নিয়মিত হাত ধোওয়া এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা হাঁচির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
৩। শীতল বাতাস থেকে সতর্ক থাকা:
বাইরে শীতল বা ঠাণ্ডা পরিবেশে গেলে নাক ও মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ঠাণ্ডা বাতাস শ্বাসনালীতে প্রবাহিত না হয়।
আরও পড়ুন:
❒ চিপসের প্যাকেটে বাতাস থাকে কেন?
❒ বৃষ্টির আগে মেঘ ধূসর হয় কেন?
❒ আমলকী খেয়ে পানি পান করলে মিষ্টি লাগে কেন?
❒ বিড়ালের পানির প্রতি বিতৃষ্ণা কেন?
❒ তারা মিটমিট করে জ্বলে কেন?
❒ চাঁদ না থাকলে পৃথিবীর কী অবস্থা হতে পারে?
৪। ঘরের ভেতর পরিষ্কার রাখা:
ধূলিকণা ও অ্যালার্জেন মুক্ত পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন। ঘর পরিষ্কার রাখলে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী কণা কম হবে।
হাঁচি একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর কণাগুলি দূর করার প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। এটি সাধারণত কোনো অ্যালার্জেন, জীবাণু, শীতল বাতাস, বা অন্য কোনো বিপজ্জনক কণার কারণে ঘটে। হাঁচি হয় যখন আমাদের শরীর এসব অস্বাভাবিক পদার্থ বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।
যদিও এটি একটি সাধারণ শারীরিক প্রক্রিয়া, কখনো কখনো অতিরিক্ত হাঁচি বা কোনো অস্বাভাবিক সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতা বজায় রাখা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
❑ মাথায় কত প্রশ্ন আসে থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: বয়স বাড়লে কেন চুল পেকে যায়?

