আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ ডেস্ক: রাসুল (সা.) সেহরিতে কী খেতেন । সেহেরি খাওয়া সুন্নত। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষরাতে ঊষা উদয়ের আগে যে পানাহার করা হয়, তা-ই সেহেরি। আল্লাহর রাসুল (স.) সেহেরি খাওয়ার জন্য উম্মতকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বলেছেন, ‘তোমরা সেহেরি খাও। কেননা, সেহেরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম: ১/৩৫০)
নবীজি আরও বলেছেন, ‘আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহেরি খাওয়া।’ (মুসলিম: ১০৯৬; আবু দাউদ: ২৩৪৩)
প্রিয়নবীজির সেহেরিতে বিশেষ কোনো আয়োজন ছিল না। সাধারণ খাবারই গ্রহণ করতেন তিনি। আরবের সাধারণ খাবার ছিল খেজুর। সেই খেজুর ও পানি দিয়েই সেহেরি সম্পন্ন করতেন নবীজি। আর নবীজির অনুসরণে সেটিই উম্মতের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট সেহেরি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (স.) বলেন, ‘খেজুর কতই না উত্তম সেহেরি!’ (আবু দাউদ: ২৩৪৫)
খেজুর আমাদের দেশে বেশ পরিচিত ও সুস্বাদু একটি ফল। প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেলস যেমন কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি উপাদানসমৃদ্ধ এই খেজুর শরীরের জন্য অনেক উপকারী। চিকিৎসকরা বলেন, শুধু রমজান মাস নয়, সারাবছরই খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখা যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ রমজানের বিদায়লগ্নে যেসব দোয়া অধিকহারে পড়বেন
রাসুলুল্লাহ (স.) সেহেরির সঙ্গে সারিদের উল্লেখ করেছেন অন্য হাদিসে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- السحور بركة والثريد بركة والجماعة بركة ‘সেহরি বরকতময়, সারিদ (গোশতের ঝোলে ভেজানো রুটি) বরকতময়, জামাতে নামাজ আদায় করা বরকতময়।’ (কানজুল উম্মাল: ২৩৯৭৭)
সেহেরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহেরির সুন্নত আদায় হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহেরি করো। কারণ যারা সেহেরি খায়, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ৩/১২; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯০১০; সহিহ ইবনে হিববান: ৩৪৭৬)
উদরপূর্তি করে সেহেরি খেলে ইবাদতে আলস্য আসতে পারে এবং পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই উম্মতের জন্য খেজুর না থাকলে সাধারণ খাবার পরিমাণমতো খাওয়া ভালো। আবার সেহেরি না খাওয়াও ঠিক নয়। এতে ক্ষুধা লাগবে এবং সেহেরির বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
আরও পড়ুনঃ
❒ সাহরি খাওয়ার বরকত ও ফজিলত
❒ মাহে রমজান যেসব কারণে মহিমান্বিত
❒ নবীজি প্রথম উপার্জন যে ভাবে ব্যয় করতে বলেছেন
❒ জুমার দিনসহ ৫ সময়ে দরুদ পড়ার বিশেষ নির্দেশনা
❒ ফজর নামাজের পর যে আমলের ফজিলত বেশি
❒ মাহে রমজানে দান-সদকার অফুরন্ত ফজিলত
সুবহে সাদিকের আগে রাতের শেষ ভাগে সেহেরি খাওয়া উত্তম। বিখ্যাত সাহাবি জায়েদ বিন সাবিত (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (স.)-এর সঙ্গে সেহেরি খাই, এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের আজান ও সাহরির মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ। (বুখারি: ১৯২১)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই (তাড়াতাড়ি) ইফতার করতে এবং শেষ সময়ে সেহেরি খেতে আদেশ করা হয়েছে।’ (আলমুজামুল আওসাত: ২/৫২৬; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৩/৩৬৮) তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিলম্ব করতে গিয়ে যেন সেহেরির সময় পার না হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানের প্রত্যেকটি বিষয়ে যথাযথ সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমীন।
❑ ইসলামী জীবন থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুনঃ পবিত্র মাহে রমজানে তিনটি আমল অবশ্যই করুন


