আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: দান-সদকার পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার শর্ত ও ইসলামী বিধান । ইসলামে দান-সদকা কেবল একটি মানবিক কাজই নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং পরকালীন মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা দানকে তাঁর সাথে ‘উত্তম ঋণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে দান করলেই যে সওয়াব বহুগুণ পাওয়া যাবে তা নয়; এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নিয়ত এবং বিশেষ কিছু পদ্ধতি অনুসরণ।
দান-সদকার সওয়াব কীভাবে বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়? হাদিসের আলোকে গোপন দান, আত্মীয়দের অধিকার এবং সদকায়ে জারিয়ার গুরুত্বসহ দানের সঠিক নিয়ম জানুন।
ইখলাস বা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত
দান করার সময় মনে রাখতে হবে, এর উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশি করা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই প্রত্যেক আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি: ১) লোক দেখানো বা প্রশংসার উদ্দেশ্যে দান করলে আমলটি নিষ্ফল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
হালাল উপার্জিত সম্পদ থেকে দান
দানের সম্পদ যেন সৎ ও হালাল উপার্জিত হয়। হারাম উপার্জন থেকে দান গ্রহণযোগ্য নয়। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।’ (সহিহ মুসলিম)
আত্মীয়-স্বজনকে প্রাধান্য দেওয়া
নিজের অভাবগ্রস্ত আত্মীয়দের আগে দান করলে সদকার সওয়াব দ্বিগুণ হয় এবং আত্মীয়তার বন্ধনও রক্ষা হয়। হাদিসে এসেছে, ‘সাধারণ মিসকিনকে দান করলে শুধু সদকার সওয়াব হয়, কিন্তু আত্মীয়কে দান করলে সদকা ও আত্মীয়তা রক্ষা- উভয় সওয়াব পাওয়া যায়।’ (তিরমিজি: ৬৫১)
গ্রহীতাকে কষ্ট বা খোঁটা না দেওয়া
দানকৃত অর্থের জন্য প্রাপককে ছোট করা বা স্মরণ করিয়ে দেওয়া সওয়াব ধ্বংস করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের সদকা নষ্ট করো না।’ (সুরা বাকারা: ২৬৪)
প্রিয় ও উন্নত বস্তু দান করা
নিজের অব্যবহৃত বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস নয়, প্রিয় ও মানসম্মত বস্তু দান করলে সওয়াব বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলছেন- ‘তোমরা কখনোই পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯২)
গোপনে দান করা
প্রকাশ্যে দান করা জায়েজ হলেও গোপনে দান আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। এটি অহংকার ও লোক দেখানো উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা গোপনে দান করো এবং অভাবগ্রস্তকে দাও তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো।’ (সুরা বাকারা: ২৭১)
আরও পড়ুন:
❒ দুনিয়ার সব অনিষ্ট থেকে রক্ষাকারী ৫টি সেরা আমল
❒ সুরা বাকারার ১৫২ আয়াতে আল্লাহ্র স্মরণ ও তাঁর প্রতিদান
❒ যে আমলে মেলে ৭০ হাজার ফেরেশতাদের দোয়া ও জান্নাতের সুখবর
❒ বৃক্ষরোপণে দুনিয়ার কল্যাণ, আখিরাতের পুরস্কার
❒ রাসুলুল্লাহ (স.) যে চারটি সুন্নত কখনোই ছাড়তেন না
❒ গোপন দান আল্লাহর অধিক পছন্দনীয়
ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
এককালীন বড় অংকের দান প্রশংসনীয় হলেও, নিয়মিত ছোট ছোট দান আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। ধারাবাহিকতা সওয়াবের পথকে দীর্ঘায়িত করে। ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল তা-ই, যা নিয়মিত করা হয়; যদিও তা পরিমাণে অল্প হোক।’ (সহিহ বুখারি)
দান-সদকা মূলত একটি ইবাদত। নিয়ত, হালাল উপার্জন, আত্মীয়তার প্রাধান্য, প্রাপককে সম্মান, প্রিয় বস্তু, গোপনীয়তা ও ধারাবাহিকতা- এই সাতটি বিষয় নিশ্চিত করলে দান ইনশাআল্লাহ পাহাড় সমান সওয়াবে পরিণত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল দান কবুল করুন। আমীন।
❑ ইসলামী জীবন থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: জালেম ও তার সহায়তাকারীদের ভয়াবহ শেষ পরিণাম

