আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: মাদুরোর আগে যারা মার্কিন খাঁচায়: ভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ইতিহাস । ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কোনো দেশের আসীন বা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে ভিনদেশি সামরিক বা গোয়েন্দা অভিযানে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি প্রথম নয়। মাদুরোর আগে গত কয়েক দশকে ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর নেতাকে একইভাবে মার্কিন খাঁচায় বন্দি হতে হয়েছে।
দীর্ঘ টানাপোড়েন আর নাটকীয়তার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি২০২৬) ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তারের খবরটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এই অভিযানের প্রতিটি ধাপ এখনো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
নিকোলাস মাদুরোর আগে নরিয়েগা ও সাদ্দামকেও বন্দি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভিনদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের তুলে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্য ইতিহাস জানুন এই প্রতিবেদনে।
ম্যানুয়েল নরিয়েগা (পানামা): মাদুরোর ঘটনার সাথে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া যায় পানামার সাবেক স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগার। ১৯৮৯ সালে ‘অপারেশন জাস্ট কজ’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র পানামা আক্রমণ করে। মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত নরিয়েগাকে ভ্যাটিকান দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। তাকে মায়ামিতে নিয়ে গিয়ে বিচার করা হয়েছিল। তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে কারাবন্দী ছিলেন। পরে ফ্রান্স হয়ে পানামায় ফেরত পাঠানো হলে ২০১৭ সালে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম হোসেন (ইরাক): ইরাক আক্রমণের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন আত্মগোপন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মার্কিন সেনারা তাকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে আটক করে। পরবর্তীতে ইরাকি ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হলেও পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিল মার্কিন সামরিক নিয়ন্ত্রণ।
স্লোবোদান মিলোসেভিচ (যুগোস্লাভিয়া): বলকান কসাই নামে পরিচিত মিলোসেভিচকে ২০০১ সালে মার্কিন চাপের মুখে এবং আন্তর্জাতিক পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তাকে সরাসরি মার্কিন ভূখণ্ডে নেওয়া হয়নি, তবে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করার প্রধান কারিগর ছিল ওয়াশিংটন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ (হন্ডুরাসের): ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে দুর্নীতি ও মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। এর পরপরই হন্ডুরাসে তার বিরুদ্ধে নতুন করে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
আরও পড়ুন:
❒ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আধুনিক মারণাস্ত্রের ভাণ্ডার
❒ বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যা ৮০৯ কোটি
❒ গাজায় নির্মম হত্যাযজ্ঞের শেষ কোথায়?
নিকোলাস মাদুরো ও বর্তমান প্রেক্ষাপট (ভেনিজুয়েলা): মাদুরোর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক সন্ত্রাস (Narco-terrorism) এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ এনেছিল মার্কিন বিচার বিভাগ। তার মাথার ওপর কোটি ডলারের পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পানামা বা ইরাকের মতো সরাসরি পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযানের চেয়ে এবার গোয়েন্দা ভিত্তিক ‘টার্গেটেড অপারেশন’কেই প্রাধান্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর এই পরিণতি ল্যাটিন আমেরিকার অন্যসব মার্কিনবিরোধী নেতাদের জন্য একটি কড়া বার্তা। তবে এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের সার্বভৌমত্বের নীতির সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স
❑ আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: ভারতে ‘মগজখেকো’ অ্যামিবার হানা! সতর্কতা জারি

