আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ: আইসিটি ওয়ার্ল্ড নিউজ ডেস্ক: মহাবিশ্ব অসীম এবং এর রহস্যেরও কোনো শেষ নেই। আমরা কল্পনায় অনেক কিছু ভাবি, কিন্তু বাস্তবতা মাঝেমধ্যে কল্পনাকেও হার মানায়। সম্প্রতি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা মূলত হীরা দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে! এই আবিষ্কার বিজ্ঞান জগতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
মহাবিশ্বে সন্ধান মিলেছে হীরা দিয়ে তৈরি এক রহস্যময় গ্রহের! ‘৫৫ ক্যানক্রি ই’ গ্রহের বৈজ্ঞানিক রহস্য এবং এর পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
গ্রহটির নাম এবং অবস্থান
বিজ্ঞানীরা এই হীরক গ্রহটির নাম দিয়েছেন ‘৫৫ ক্যানক্রি ই’ (55 Cancri e)। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে ‘ক্যানসার’ নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এটি একটি ‘সুপার আর্থ’ জাতীয় গ্রহ, অর্থাৎ এটি পাথুরে কিন্তু পৃথিবীর চেয়ে আকারে প্রায় দ্বিগুণ এবং ভরে আটগুণ বড়। এটি তার নক্ষত্রের খুব কাছ দিয়ে প্রদক্ষিণ করে, ফলে এর এক বছর মাত্র ১৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হয়।
কেন এটি হীরার গ্রহ?
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্রহটি কার্বনে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। গ্রহটির অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ এবং চাপ রয়েছে। এই অত্যধিক তাপ ও চাপের কারণে গ্রহের উপাদানে থাকা কার্বন স্ফটিক বা ক্রিস্টাল আকারে রূপান্তরিত হয়ে হীরায় পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের কম্পিউটার মডেলিং অনুযায়ী, গ্রহটির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হীরা দিয়ে তৈরি হতে পারে!
গ্রহটির পরিবেশ কেমন?
৫ ক্যানক্রি ই গ্রহটি হীরার হলেও, এটি মোটেও বাসযোগ্য নয়। এর নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অবিশ্বাস্যভাবে বেশি—প্রায় ৩,৯০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এই প্রচণ্ড তাপে হীরাও গলে যেতে পারে! গ্রহটির একপাশে সবসময় তীব্র আলো এবং অন্যপাশে চিরকাল অন্ধকার থাকে। এর পৃষ্ঠে গলিত লাভার নদী বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই আবিষ্কারের গুরুত্ব কী?
এই আবিষ্কার মহাবিশ্বে কার্বন-সমৃদ্ধ গ্রহের অস্তিত্ব প্রমাণ করে, যা আমাদের সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর গঠন সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। এটি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের বিভিন্ন গ্রহের রাসায়নিক গঠন আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হতে পারে।
আরও পড়ুন:
❒ পৃথিবী অন্ধকারে ৬ মিনিট: আসছে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
❒ মহাকাশে রহস্যময় নতুন গ্রহের সন্ধান
❒ রহস্যময় এক তারার ‘স্পন্দন’ হতবাক বিজ্ঞানীরা
❒ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে ঠেকাতে ব্যবহার হবে পরমাণু অস্ত্র
❒ ইউরেনাসের চাঁদে মহাসাগরের সন্ধান
❒ বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে রহস্যময় কার্যকলাপ উদঘাটন বিজ্ঞানীদের
আমরা কি এই হীরা আনতে পারব?
বর্তমানে আমাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪০ আলোকবর্ষ দূরে যাওয়া অসম্ভব। তাছাড়া সেখানকার চরম প্রতিকূল পরিবেশ কোনো মহাকাশযান বা মানুষের টিকে থাকার জন্য একেবারেই উপযোগী নয়। তাই এই হীরার গ্রহটি কেবল বৈজ্ঞানিক কৌতূহল এবং গবেষণার বিষয় হয়েই থাকবে।
‘৫৫ ক্যানক্রি ই’ গ্রহটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মহাবিশ্ব সত্যিই বিষ্ময়কর। এটি কেবল বিজ্ঞানীদের গবেষণা নয়, সাধারণ মানুষের কল্পনার জগতেও নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই রহস্যময় গ্রহের আরও অনেক গোপন তথ্য হয়তো ভবিষ্যতের গবেষণায় উন্মোচিত হবে।
তথ্যসূত্র: নাসা নিউজ
❑ জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: প্রথম সন্ধান পাওয়া কৃষ্ণগহ্বরটি সূর্যের চেয়ে ১০ হাজার গুণ শক্তিশালী

