কেবল উপবাস নয়, সিয়াম হোক জীবন পরিবর্তনের অঙ্গীকার
আকাশজুড়ে বাঁকা চাঁদ ঘোষণা করছে পবিত্র মাহে রমজানের আগমণী বার্তা। রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের ডালি নিয়ে আসা এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির এক বার্ষিক মহড়া। তবে প্রতি বছর রমজান আমাদের দুয়ারে এলেও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—আমরা কি সিয়ামের প্রকৃত নির্যাস গ্রহণ করতে পারছি?
সিয়াম সাধনা কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জনের নাম নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন। যদি সারাদিন ক্ষুধার্ত থেকে সন্ধ্যার ইফতারে আমরা জৌলুসের প্রতিযোগিতায় নামি, কিংবা দিনের বেলা অন্যের গিবত ও উপহাসে মগ্ন থাকি, তবে সেই উপবাসে ক্ষুধার কষ্ট ছাড়া আর কোনো অর্জন থাকে না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই সতর্কবার্তা আমাদের মনে রাখা জরুরি—যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সামাজিক অস্থিরতার এই সময়ে রমজান আমাদের সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তি যখন দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকেন, তখন তিনি অনাহারী মানুষের যাতনা অনুভব করতে পারেন। এই অনুভূতিই তাকে আর্তমানবতার সেবায় উদ্বুদ্ধ করে। তাই এবারের রমজান হোক অপচয় রোধ করার এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাস।
আরও পড়ুন:
❒ ঈদুল আযহার শিক্ষা-ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক মানবতা
❒ পবিত্র ঈদুল ফিতর: আনন্দ ও উদারতার উপলক্ষ্য
❒ আশুরার তাৎপর্য ফজিলত ও আমল
❒ সবার অংশগ্রহণে ঈদুল আজহা হয়ে উঠুক আনন্দময়
❒ ঈদ মুবারক
❒ সুস্বাগতম মাহে রমজান
আসুন, এই রমজানে আমরা কেবল পেটের নয়, বরং জিহ্বা, চোখ ও কানের রোজা রাখি। আমাদের কথা ও কাজে যেন কেউ কষ্ট না পায়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখি। সিয়াম হোক আমাদের কুপবৃত্তি দমনের ঢাল এবং আত্মিক প্রশান্তির পাথেয়। রমজানের এই প্রশিক্ষণ যেন কেবল ৩০ দিনেই সীমাবদ্ধ না থেকে সারাবছরের পাথেয় হিসেবে আমাদের জীবনে মিশে থাকে।
❑ সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: স্বাগতম ২০২৬: সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির আগামীর প্রত্যাশা

