আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ ডেস্ক: এসএসসি ও সমমানে পাশের হার ৬৮.৪৫ । এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর সকল বোর্ডের পাসের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১,৩৯,০৩২ জন।
গত বছর পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আর জিপিএ ফাইভ পেয়েছিল এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করেছে।
এবারও ফল প্রকাশ ঘিরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। তবে সার্বিক বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির।
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্টকোড ১৬২২২-তে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল পাওয়া যাবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকায় ফলাফল পাওয়া যাবে না।
ফল প্রকাশের পর ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময়ও জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এ জন্য আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন পদ্ধতি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং টেলিটক বাংলাদেশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে।
গত ১০ এপ্রিল ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন।
৯ বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখা যাবে যে পদ্ধতিতে
দেশের নয়টি বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখতে শিক্ষার্থীরা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে নিজের ফল দেখতে পারবে।
আবার মোবাইল থেকে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে — SSC [বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] 2025—এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে (যেমন : SSC Dha 123456 2025)।
মাদ্রাসার ‘দাখিল’ পরীক্ষার ফল দেখা যাবে যেভাবে
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার পরীক্ষার ফল দেখা যাবে অনলাইন ও এসএমএস— উভয় মাধ্যমেই।
শিক্ষার্থীরা www.bmeb.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘অনলাইন সেবা-১’ কর্নার থেকে ‘দাখিল পরীক্ষা ২০২৫’ অপশনে ক্লিক করে জেলা ও কেন্দ্রভিত্তিক ফল দেখতে পারবে।
এ ছাড়া www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটেও রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ব্যক্তিগত ফল জানা যাবে।
আবার, ফল জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা চাইলে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করে রাখতে পারবে। এজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে— Dakhil MAD রোল নম্বর 2025— এবং তা পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। যেমন : Dakhil MAD 123456 2025। প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে ফল প্রকাশের পর সঙ্গে সঙ্গে ফল মোবাইলে পৌঁছে যাবে।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, প্রতিষ্ঠানের ফল জানার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল জানতে https://eboardresults.com/v2/home ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Institution Result’ সিলেক্ট করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফল ডাউনলোড করা যাবে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল দেখা যাবে যেভাবে
২০২৫ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনে দেখতে পারবে।
প্রথমত, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে www.bteb.gov.bd প্রবেশ করে ‘Result Corner’-এ ক্লিক করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি অথবা প্রতিষ্ঠান কোড এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলের ফলপত্র (Result Sheet) ডাউনলোড করা যাবে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীরা www.bteb.gov.bd অথবা www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করে নিজের ফলাফলসহ গ্রেড ভিত্তিক ট্রান্সক্রিপ্ট (Grade-based Transcript) ডাউনলোড করতে পারবে।
তৃতীয়ত, মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানার সুযোগও রয়েছে। এ জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে—
SSC TEC <রোল নম্বর> 2025 এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
উদাহরণস্বরূপ : SSC TEC 123456 2025 পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।
কোন বোর্ডে পাশের হার কত?
এবার গড় পাশের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি পাশের হার রাজশাহী বোর্ডে ৭৭.৬৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে যশোর বোর্ডে ৭৩.৬৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭২.০৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৬৮.৫৭ শতাংশ, ঢাকা বোর্ডে ৬৭.৫১ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৬৭.০৩ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৩.৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৮.২২ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে ৫৬.৩৮ শতাংশ।
জিপিএ-৫ কমেছে ৪৩ হাজার ৯৭
এবার সারা দেশে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৪৩ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ কম পেয়েছে।
এ বছর গড় পাশ কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাশের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৮৩ দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৬৫.১১
চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এতে পাসের হার ৬৫.১১ শতাংশ। এসএসসি ও সমমান পরিক্ষার মোট পাসের হার ৬৮.৪৫।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবীর।
কারিগরি বোর্ডে পাশের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৮
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাশের হার ৬৮.৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে শুধুমাত্র কারিগরি বোর্ডে পাশের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ।
কারিগরি বোর্ডের ফলাফলে দেখা যায়, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কারিগরি বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করেন মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে এক লাখ ৪ হাজার ৮৯২ জন ছাত্র ও এক লাখ ৩৩ হাজার ৩১২ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় কারিগরি বোর্ড থেকে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৭ জন শিক্ষার্থী পাশ করেন। যার মধ্যে ছাত্র ৭৪ হাজার ৫৬৯ জন ও ছাত্রী ২৭ হাজার ১৮৮ জন।
কারিগরিতে এবার ছাত্রদের পাশের হার ৭১.০৯ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৮১.৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৯১ জন ও ছাত্রী ২ হাজার ৬৫৭ জন।
শতভাগ পাশ প্রতিষ্ঠান কমেছে ১৯৮৪ টি
এবার শতভাগ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। সারা দেশের ১৯৮৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার শতভাগ। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৬৮টি। তার মানে, এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৯৮৪ টি।
এসএসসিতে ফেল করেছে ৬ লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন ছাত্রী রয়েছে।
উল্লেখ্য,চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ১০ এপ্রিল। পরীক্ষা শেষ হয় ১৩ মে। এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত-অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় এবার প্রায় এক লাখ পরীক্ষার্থী কম ছিল। এবার ফল তৈরি হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতিতে।
❑ শিক্ষাঙ্গন থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনপত্র লেখার সময় যা মনে রাখা জরুরি

