আইসিটি ওয়ার্ল্ড নিউজ: এটিএম-এর জন্মকথা: যখন ব্যাংক চলে এল আপনার হাতের নাগালে । আজকের ব্যস্ত জীবনে পকেটে নগদ টাকা শেষ হয়ে গেলে আমরা ভরসা খুঁজি রাস্তার ধারের এটিএম বুথে। কিন্তু এক সময় ব্যাংক থেকে টাকা তোলা ছিল এক দীর্ঘ ও বিরক্তিকর প্রক্রিয়া। আজ থেকে প্রায় ছয় দশক আগে একটি সাধারণ ভাবনা কীভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তার ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
ব্যাংকিংয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এটিএম-এর আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর গল্প জানুন। চকোলেট মেশিন থেকে পিন কোড—সব বিস্তারিত তথ্য থাকছে এই প্রতিবেদনে।
ভাবনার শুরু: চকোলেট মেশিন যখন অনুপ্রেরণা (১৯৬৫) এটিএম-এর মূল উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত স্কটিশ নাগরিক জন শেফার্ড-ব্যারন। ১৯৬৫ সালে একদিন তিনি ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন মাত্র ১ মিনিটের জন্য ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে গেছে। হতাশ হয়ে ফেরার পথে তিনি একটি চকোলেট ভেন্ডিং মেশিন দেখেন। তিনি ভাবলেন—যদি চকোলেটের মতো মেশিন থেকে টাকাও পাওয়া যেত! এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় ‘অটোমেটেড টেলার মেশিন’ বা এটিএম।
প্রথম এটিএম-এর যাত্রা (১৯৬৭) জন শেফার্ড-ব্যারনের এই আইডিয়াটি গ্রহণ করে লন্ডনের বার্কলেস ব্যাংক (Barclays Bank)। অবশেষে ১৯৬৭ সালের ২৭ জুন উত্তর লন্ডনের এনফিল্ড শাখায় বিশ্বের প্রথম এটিএম মেশিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এই মেশিনে প্রথম কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলেছিলেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ কমেডিয়ান রেগ ভার্নি (Reg Varney)।
পিন নম্বর ৬ নাকি ৪? (১৯৬৭) শুরুতে জন শেফার্ড-ব্যারন পিন (PIN) নম্বর ৬ ডিজিটের করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্ত্রী ক্যারোলিন জানান, তিনি ৪ ডিজিটের বেশি মনে রাখতে পারছেন না। স্ত্রীর সেই সুবিধার কথা মাথায় রেখেই আজও সারা বিশ্বে এটিএম-এর পিন কোড সাধারণত ৪ ডিজিটেরই হয়ে থাকে।
কার্ড ও পিন-এর আধুনিকায়ন (১৯৬৬-১৯৭০) জন শেফার্ড-ব্যারন মেশিনটি বানালেও, কার্ড এবং পিন প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল অন্য এক প্রকৌশলী জেমস গুডফেলো-র। ১৯৬৬ সালে তিনি একটি কার্ড এবং পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (PIN) ব্যবহারের পেটেন্ট বা স্বত্ব লাভ করেন, যা আজকের আধুনিক এটিএম ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করেছে। ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে এটিএম-এর ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
❒ আয়নার আয়নায় ইতিহাস: প্রতিফলনের পথ ধরে হাজার বছরের যাত্রা
❒ বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর হাতে বিশ্ব স্বাস্থ্যের সমাধান
❒ আলো থেকে ছবিতে: ক্যামেরা আবিষ্কারের বিস্ময়কর ইতিহাস
❒ সংখ্যার জাদুকর: ক্যালকুলেটর আবিষ্কারের বিস্ময়কর ইতিহাস
❒ টয়লেট টিস্যু আবিষ্কার হলো কিভাবে
❒ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: অ্যান্টিবায়োটিকের মহানায়ক
বাংলাদেশে এটিএম-এর ইতিহাস বাংলাদেশে এটিএম ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয় একটু দেরিতে। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে কিছু ব্যাংক সীমিত পরিসরে এই সেবা আনলেও, ২০০৪ সালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হাত ধরে এটি আধুনিক ও জনপ্রিয় রূপ পায়। বর্তমানে কার্ড ছাড়াও কিউআর (QR) কোড এবং আঙুলের ছাপ দিয়েও এটিএম থেকে টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, হিস্ট্রি ডট কম, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
❑ আবিষ্কার ও আবিষ্কারক থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: পড়ালেখার শুরু: গুহার দেয়াল থেকে ডিজিটাল পর্দা পর্যন্ত

