আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা ফিচার সরিয়ে নিয়েছে অ্যাপল । সরকারের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপত্তা ফিচার সরিয়ে নিয়েছে অ্যাপল।
প্রযুক্তি জায়ান্টটি তাদের ‘অ্যাডভান্সড ডেটা প্রোটেকশন’ বা এডিপি সিস্টেমটি যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে ফেলছে, যা ক্লাউডে আপলোড করা ব্যবহারকারীর ডেটাকে এনক্রিপ্ট করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
এর আগে, অ্যাপল ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ্টেড ক্লাউড পরিষেবাতে প্রবেশের জন্য কোম্পানিটির কাছে একটি ব্যাকডোর বা গোপন দরজা তৈরির দাবি জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকার।
ব্রিটিশ সরকার ২০১৬ সালের ‘ইনভেস্টিগেটরি পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা আইপিএ-এর অধীনে অ্যাপলকে তাদের বিভিন্ন ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য একটি আদেশ জারি করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি করতে পারবে দেশটির বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
গত মাসে জারি করা যুক্তরাজের এ দাবি অ্যাপলের এডিপি নিরাপত্তা ফিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাউড সার্ভারে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ব্যক্তিগত ডেটা সংরক্ষণ ও তা এনক্রিপ্টটেড করে অ্যাপল।
অ্যাপল বলেছে, যুক্তরাজ্যে আর এডিপি বা নিরাপত্তা ফিচার দিতে পারবে না বলে “অত্যন্ত হতাশ” তারা।
এক বিবৃতিতে আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, “ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটার সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অ্যাপল। আর ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যেও এমনটি করতে পারবো বলে আশাবাদী আমরা।
“আগেও অনেকবার বলেছি, আমরা কখনোই আমাদের কোনো পণ্য বা পরিষেবার জন্য ব্যাকডোর তৈরি করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যুক্তরাজ্যের আদেশ জারি ও অ্যাপলের এই ফিচারটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির ব্যবহারকারীদের বিপদে ফেলবে।
সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘হান্ট্রেস’-এর ‘সিকিউরিটি অপারেশন’ বা নিরাপত্তা কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড্রে আগা বলেছেন, “যুক্তরাজ্য থেকে এডিপি তুলে নেওয়ার অ্যাপলের এমন সিদ্ধান্ত, ব্যবহারকারীদের এনক্রিপ করা ডেটায় প্রবেশের জন্য সরকারের ক্রমাগত দাবির প্রেক্ষিতে একটি বড় পদক্ষেপ।”
আরও পড়ুনঃ
❒ গত বছর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উবারের অবদান ৫৫০০ কোটি টাকা
❒ বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইউটিউবের বার্ষিক আয় কত?
❒ ট্রাম্প নিষিদ্ধের দায়ে জাকারবার্গের আড়াই কোটি ডলার জরিমানা
❒ অ্যাপল ও গুগলের মোবাইল সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্য
“এনক্রিপশন সিস্টেমকে দুর্বল করার বিষয়টি কেবল যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের সাইবার হুমকির জন্যই ঝুঁকির নয়, বরং গোটা বিশ্বে প্রাইভেসির জন্যও একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে।”
“এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে– বিভিন্ন দেশের সরকার এমন যুক্তি দিলেও ইতিহাস বলে, কোনো পক্ষের জন্য তৈরি যে কোনও গোপন দরজা অবশেষে খারাপ কারো মাধ্যমে ব্যবহৃত হতে পারে।”
“সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এমন পদক্ষেপ অন্যান্য বিভিন্ন কোম্পানিকেও তাদের নিরাপত্তা ফিচার দুর্বল করতে চাপ দিতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডেটাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।”
❑ প্রযুক্তি সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ফাঁস হওয়া ১০ পাসওয়ার্ড


