আইসিটি ওয়ার্ড নিউজ ডেস্ক: চাঁদের দক্ষিণ মেরু নিয়ে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল কেন বাড়ছে ? মহাকাশ মানেই রহস্যের শেষ নেই। আর তাই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচন করতে আগ্রহী নাসা। সংস্থাটির তথ্যমতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু সৌরজগতের সৃষ্টি রহস্যের সূত্র ধারণ করছে। চিরস্থায়ী অন্ধকারে থাকা দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের তেমন বিস্তারিত কোনো তথ্য না থাকায় আর্টেমিস অভিযানের মাধ্যমে সেখানে বরফ ও অন্যান্য হিমায়িত উদ্বায়ী পদার্থ শনাক্তে অনুসন্ধান করা হবে। এর ফলে পৃথিবীতে কীভাবে পানি এসেছে তা নিয়ে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরু নিয়ে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল বাড়ছে কারণ সেখানে জলের বরফ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের অস্তিত্ব রয়েছে, যা সৌরজগতের উৎপত্তি এবং পৃথিবীর উৎপত্তিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।
কয়েক দশক ধরে চাঁদের দক্ষিণ মেরু আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় ও অনাবিষ্কৃত স্থান হিসেবে আলোচিত। পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান সূর্যালোকে আলোকিত সমভূমির বিপরীতে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলটি চিরস্থায়ী অন্ধকারে ঢাকা থাকে। আর তাই সেখানে চাঁদের প্রাথমিক ইতিহাসের বিভিন্ন নমুনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাসার আসন্ন অভিযানে বরফ ও অন্যান্য হিমায়িত উদ্বায়ী পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়াও সৌরজগতের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যাবে।
নাসার তথ্যমতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু এ পর্যন্ত অন্বেষণ করা অন্য যেকোনো স্থানের চেয়ে ভিন্ন। সেখানের শ্যাকলটন, হ্যাথ ও ফস্টিনি নামের খাদে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করে না। এর ফলে সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসে। সেই অন্ধকারে পানি, কার্বন ডাই–অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ও মিথেনের মতো উদ্বায়ী পদার্থ অক্ষত অবস্থায় থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, বিভিন্ন হিমায়িত পদার্থ প্রাচীন ধূমকেতু ও গ্রহাণুর মাধ্যমে চাঁদে জমা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে একটি দীর্ঘমেয়াদি বাসস্থান ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে নাসার আর্টেমিস বেস ক্যাম্প।
চাঁদের দক্ষিণ মেরু নিয়ে কৌতূহলের কারণ:
জলের বরফের সন্ধান: চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চিরস্থায়ীভাবে ছায়াযুক্ত গর্তে জলের বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বরফ সরাসরি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা চাঁদে জলের উপস্থিতি এবং পৃথিবীর উৎপত্তিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পেতে পারেন।
আরও পড়ুন:
❒ চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বানাতে চায় নাসা
❒ চাঁদেই পানি সংগ্রহের মিশনে বিজ্ঞানীরা
❒ চাঁদে বসবাস আগের ধারণার চেয়েও সহজ হতে পারে!
❒ চাঁদে অক্সিজেন তৈরির চেষ্টা
❒ অবশেষে জানা গেল চাঁদের বয়স
❒ চাঁদের দূরবর্তী অংশের অজানা তথ্য দিলেন চীনের বিজ্ঞানীরা
সৌরজগতের সৃষ্টির রহস্য: এই অঞ্চলে প্রাথমিক সৌরজগতের ইতিহাস এবং গঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিহিত আছে, যা ‘কুল ট্র্যাপ’ হিসেবে কাজ করে।
ভবিষ্যতের মানব বসতি: চাঁদের দক্ষিণ মেরু ভবিষ্যতে মানব বসতি স্থাপনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হতে পারে, কারণ এখানে বরফ থেকে জল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ পাওয়া যেতে পারে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য সুবিধা: চাঁদের মেরু অঞ্চলের কিছু অংশে সূর্যালোকের কম উপস্থিতি এবং তাপমাত্রার চরম ভিন্নতার কারণে বিজ্ঞানীদের জন্য একটি অনন্য গবেষণার পরিবেশ তৈরি হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
❑ মহাকাশ ও বিজ্ঞান থেকে আরও পড়ুন
আরও পড়ুন: চাঁদের মাটিতে চা গাছ জন্মেছে, নতুন গবেষণা

